স্টার্ক একাই ধুয়ে দিলেন লঙ্কানদের

দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইটওয়াশ করলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ক্যানেবেরাতে বাঁ-হাতি পেসার মিচেল স্টার্ক কাজটি প্রায় একাই সারলেন। দশটি উইকেট শিকার করেন তিনি। তার বোলিং নৈপুণ্যে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে রেকর্ড গড়া ৩৬৬ রানের বড় ব্যবধানে হারায় অসিরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার আগের বড় জয়টি ছিল ১৯৭ রানে। ২০০৪ সালে গল টেস্টে লঙ্কানদের এই রানে হারিয়েছিল অসিরা।

ব্রিজবেনে সিরিজের প্রথম টেস্টে শ্রীলঙ্কাকে ইনিংস ও ৪০ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

ক্যানবেরা টেস্ট জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কাকে ৫১৬ রানের বিশাল টার্গেট দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় দিন শেষে বিনা উইকেটে ১৭ রান করেছিলো লঙ্কানরা। তাই ম্যাচ জয়ের জন্য বাকি দুই দিনে আরো ৪৯৯ রান করতে হতো শ্রীলঙ্কাকে।

অপরদিকে, প্রতিপক্ষের ১০ উইকেট নিলেই দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট জিতে নিবে অস্ট্রেলিয়া।

এই সমীকরণে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। দুই ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে ও লাহিরু থিরিমান্নে ৮ রান নিয়ে শুরু করেন। দলীয় ১৮ রানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। ৮ রানেই করুনারত্নেকে বিদায় দেন অস্ট্রেলিয়ার পেসার স্টার্ক। লঙ্কানদের শিবিরে দ্বিতীয় আঘাতও হানেন স্টার্ক। অধিনায়ক দিনেশ চান্দিমালকে ৪ রানের বেশি করতে দেননি তিনি।

এরপর পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন থিরিমান্নে ও উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলা। তবে বেশি দূর একত্রে পথ চলতে পারেননি তারা। ৩০ রান করা থিরিমান্নেকে শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে তৃতীয় উইকেট শিকারের আনন্দে মাতিয়ে তোলেন পেসার প্যাট কামিন্স। থিরিমান্নের মত ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন ডিকবেলা। ২৭ রান করে স্টার্কের তৃতীয় শিকার হন ডিকবেলা।

উপরের সারির ব্যাটসম্যানরা যেখান ব্যর্থ, সেখানে দুই অংকে কোটাই স্পর্শ করতে পারেননি শ্রীলঙ্কার মিডল-অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান কুশল পেরেরা ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। পেরেরা ০ রানে স্টার্কের ও ডি সিলভা ৬ রান তুলে জেই রিচার্ডসনের বলে আউট হন।

ফলে ৯৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চা-বিরতির পরই খাদের কিনারে চলে যায় শ্রীলঙ্কা। শেষ পর্যন্ত তা-ই ঘটেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। এই স্কোর পর্যন্ত লঙ্কানরা আসতে পারে কুশল মেন্ডিস ও অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা চামিকা করুনারত্নের ছোট দুটি ইনিংসে। মেন্ডিস ৬৯ বলে ৪২ ও করুনারত্নে ৩৮ বলে ২২ রান করেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্ট্রার্ক ৪৬ রানে পাঁচ উইকেট নেন। এই নিয়ে ১১তমবারের মত ইনিংসে পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকার করলেন স্টার্ক। প্রথম ইনিংসেও ৫৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন স্টার্ক। ফলে পুরো ম্যাচে তার বোলিং ফিগার দাড়ালো এক শ’ রানে ১০ উইকেট। তাই ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। আর সিরিজ সেরা হন অস্ট্রেলিয়ারই কামিন্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *