যেভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন মিশরের প্রেসিডেন্ট মুরসি

জালিমের কারাগারে বন্দি প্রেসিডেন্ট ড.মুরসির কলিজার টুকরা, বাবার ইন্তেকালের খবর শুনার পর ওসামা মুরসির মন্তব্য
ইনশা আল্লাহ রোজ কিয়ামতের দিন মহান রবের সামনেই আমার পিতা ও আমরা এক সাথে মিলিত হব।

আদালতের এজলাসেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন মিসরের প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।

মুরসি কারাগারে অকালে মারা যেতে পারেন বলে আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থা আগে থেকেই সতর্ক করেছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, সাবেক এ প্রেসিডেন্টকে কারাবন্দি রাখার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মুরসির আগাম মৃত্যুর জন্য ক্ষমতাসীন আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকেও দায়ী করেছিল যুক্তরাজ্যের বিশেষ স্বাধীন বন্দিত্ব পর্যালোচনা প্যানেল ইনডিপেনডেন্ট ডিটেনশান রিভিউ প্যানেল।

সোমবার আদালতে মুরসির মৃত্যর পর অনেক্ষণ মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রেখেছে সিসি প্রশাসন। সঠিক সময়ে মুরসির মৃত্যুর খবরওদেয়া হয়নি।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আদালতের কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর ৬৭ বছর বয়সী সাবেক এ প্রেসিডেন্ট জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর কিছুক্ষণ পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

অন্যদিকে বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আদালতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাচার মামলার শুনানি চলছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারকের কাছে কথা বলার অনুমতি চাইলে তাকে কথা বলতে অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

এ সময় ২০ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। বক্তব্যের মধ্যেই বুকে ব্যথা অনুভব করেন মুরসি। এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।

এদিকে মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

সোমবার মুরসির মৃত্যুর পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এরদোগান বলেন, গাড়ি থেকে নামার সময় আমার কাছে মুরসির মৃত্যুর খবর আসে। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের শহীদ ভাইদের জন্য দোয়া করছি, আল্লাহ যেন শহীদদের ওপর রহম করেন।

এরদোগান বলেন, আদালতের এজলাসেই তার মৃত্যু হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আল্লাহর কাছে রহমত কামনা করি।

আরো সংবাদ

প্রেসিডেন্ট মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানালেন কাতারের আমীর

মিশরের সাবেক নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর ইন্তেকালে শোক জানিয়েছেন কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আলে ছানি।

সোমবার (১৭ জুন) নিজের ফেরিফাইড টুইটার একাউন্টে তিনি এ শোকবার্তা প্রকাশ করেন।

কাতারের আমির উক্ত টুইটে বলেছেন, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসীর হঠাৎ মৃত্যুর খবর পেয়ে খুব দুঃখ পেয়েছি। তাঁর পরিবার ও মিশরবাসীর জন্য সমবেদনা জানাই। নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর নিকট সবাইকে ফিরে যেতে হবে।

৬৭ বছর বয়সী মুহাম্মাদ মুরসী গতকাল সোমবার (১৭ জুন) দেশটির আদালতে বক্তৃতারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মিশরে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন হলে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুহাম্মাদ মুরসী।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার। এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে।

কয়েকটি মামলায় মুরসীকে ৪৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

গত ৬ মে মুহাম্মদ মুরসীর পরিবার জানায়, তাকে বর্তমানে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। এটা তাকে বন্দিদশার শর্ত-বিরোধী। ইচ্ছাকৃতভাবেই এমনটা করা হচ্ছে।

মুরসীর পরিবার আরও জানায়, কারাগারে সাবেক প্রেসিডেন্টের ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না এবং সেখানে তাকে বারবার হত্যা করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। এমনকি হুমকির বিষয়টি আদালতকে জানানো হলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

মুহাম্মাদ মুরসীর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে কারাগারে তার দুরবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আস-সিসি সরকারকে সরাসরি দায়ী করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মিশিরের সাবেক প্রেসিডেন্টকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এবং তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ করতে না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘন করা হচ্ছে।

এছাড়া, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসী চিকিৎসার অভাবে কারাগারে মৃত্যুবরণ করতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছ ব্রিটেনের সংসদীয় কমিটি।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য টাইমস’ কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আইনজীবীর বরাত দিয়ে লিখে, মুহাম্মাদ মুরসী বিভিন্ন ধরণের রোগে ভুগছেন। ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ও লিভার সমস্যায় ভুগলেও তার সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। তাকে মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি জেলখানার নির্জন সেলে রাখা হয়েছে। খারাপ আচরণ এবং চিকিৎসার অভাবে মুরসীর জীবন এখন হুমকির মুখে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *