বছরে ৪২ লাখ রোগী মারা যায় অস্ত্রোপচারের ৩০ দিনে

অস্ত্রোপচারের ৩০ দিনের মধ্যে বিশ্বে প্রতি বছর ৪২ লাখ মানুষ মারা যায়। ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম, ২৯টি দেশের অস্ত্রোপচারের তথ্য নিয়ে গবেষণা করে বলছে, ছোরা দিয়ে কাটাকাটির পরই ১২ লাখ ৩০ হাজার রোগী মারা যায়। এই সংখ্যাটা এইচআইভি, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় মোট মৃত্যুর চেয়ে বেশি। অস্ত্রোপচারের ৩০ দিনের মধ্যে মৃত্যুর এই সংখ্যা মোট মৃত্যুর ৭.৭ শতাংশ। গবেষণায় বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর সবচেয়ে বেশি মারা যায় হার্ট ও ব্রেইন স্ট্রোকের রোগীরা। অস্ত্রোপচারের পর রক্তক্ষরণ ও জীবাণু সংক্রমণের মতো জটিলতাকে এ ধরনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, অস্ত্রোপচারই হলো বৈশ্বিক স্বাস্থ্যের অবহেলিত সৎ সন্তান। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড সার্জারি বিভাগের ড. দিমিত্রি নেপোগোডিয়েভ গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ড. নেপোগাডিয়েভ বলেন, সংক্রমক রোগের চিকিৎসায় যত ব্যয় করা হয় এর একটি অংশই কেবল অস্ত্রোপচার বিভাগের জনশক্তি প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি ও হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধায় ব্যয় করা হয়। এই বিভাগটি বৈমাত্রেয় সন্তান হিসেবেই রয়ে গেল। বিশ্বব্যাপী অস্ত্রোপচারের গুণগতমান পরীক্ষা করতেই এই গবেষণাটি করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, কেবল বিশ্বের ২৯ দেশ থেকে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা, অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গবেষণা জার্নাল ‘লেনচেট’-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী এইচআইভি, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়ায় একত্রে বছরে মারা যায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার। যক্ষ্মা বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দিক থেকে দশম অবস্থানে। এ রোগে মারা যায় বছরে ২.২ শতাংশ মানুষ। অবশ্য এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া বিশ্বের শীর্ষ দশ মৃত্যুর তালিকায় নেই। আর্টারিতে প্লেক জমার কারণে হার্টে রক্ত সরবরাহ বাধাপ্রাপ্ত হলে করোনারি হৃদরোগ হিসেবে চিকিৎসকেরা চিহ্নিত করেন। হৃদরোগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মারা যায়। এই রোগে বছরে বিশ্বব্যাপী ১৭.৩ শতাংশ মানুষ মারা যায়। এরপরই ব্রেইন স্ট্রোকে ১০.১ শতাংশ মারা যায় এবং এরপরই স্থানটি দখল করে আছে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যু।

যে ২৯ দেশে যেসব মানুষ অস্ত্রোপচারে অথবা পরে যারা মারা যায় এদের বেশির ভাগের প্রয়োজন ছাড়া বাধ্য হয়ে অস্ত্রোপচারে যেতে হয়। গবেষকেরা বলছেন, নিরাপদ অস্ত্রোপচার ও আর্থিক সামর্থ্যরে বাইরে অস্ত্রোপচারে যাচ্ছে বিশ্বের ৪৮ লাখ মানুষ। তারা বলছেন, এসব দরিদ্র দেশে আবার একান্তই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও ১৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অস্ত্রোপচারে যেতে পারেন না। যদি ওই ১৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হতো তাহলে অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী বছরে ৬১ লাখে পৌঁছাত। গবেষণায় অবশ্য অস্ত্রোপচার সম্পর্কিত মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করা হয়নি অথবা অস্ত্রোপচারের পর কেবল নানা জটিলতায় মারা গেছে এমন তথ্যের কথাও স্বীকার করা হয়েছে।

এই গবেষণার অথর বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডিয়ন মর্টন বলেছেন, অস্ত্রোপচার জীবন বাঁচায় এবং রোগীকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেয় কিন্তু এই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, অস্ত্রোপচারের পরপরই বিশালসংখ্যক রোগী মারা যায়। বিশ্বব্যাপী অস্ত্রোপচারে প্রবেশগম্যতা সহজ করার চেষ্টা চালানো হলে গুণগত মানসম্পন্ন ও নিরাপদ অস্ত্রোপচার করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *