জেল এড়াতে পারবেন প্রিয়াঙ্কার স্বামী?

অর্থ তছরুপের মামলায় শনিবার আগাম জামিন পেলেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের সাধারণ সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ওয়াধেরা। এই মামলায় আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে এদিন নির্দেশ দিয়েছে দিল্লির এক আদালত। তবে গ্রেফতারি থেকে আপাতত রেহাই মিললেও আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সোনিয়া গান্ধীর জামাইকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) মুখোমুখি হতে হবে। এদিন তেমনটাই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

রবার্ট ওয়াধেরার বিরুদ্ধে অভিযোগ, লন্ডনে ১৯ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি সংক্রান্ত একটি চুক্তি নিয়ে অনিয়ম করেছেন তিনি। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ইডি।

উল্লেখ্য, ক’দিন আগেই কংগ্রেসের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী তাকে দলের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত করে পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ভার দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীতেও কংগ্রেসের হয়ে দায়িত্ব সামলাতে দেখা যাবে সোনিয়া-কন্যাকে।

এই অবস্থায় রবার্ট ওয়াধেরার বিরুদ্ধে ইডির এই তৎপরতাকে লোকসভা ভোটের বছরে শাসকদলের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে অভিযোগ করছে কংগ্রেস। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই ইডির দায়ের করা মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে দিল্লির আদালতে গিয়েছিলেন রবার্ট। এদিন তার সেই আবেদন মঞ্জুর হয় আদালতে। তবে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রেফতারি এড়ানো গেলেও আদালতের নির্দেশ, ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ইডির সামনে হাজির হতে হবে।

এদিন রবার্ট ওয়াধেরার আইনজীবী বলেন, ইডির দায়ের করা এই মামলার তদন্তে সহযোগিতা করবেন তার মক্কেল। পাশাপাশি ইডি সূত্রের খবর, এই মামলায় আরও এক অভিযুক্ত হলেন রবার্ট ওয়াধেরার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মনোজ অরোরা। আদালতের নির্দেশে গ্রেফতারি থেকে আগেই সাময়িক রেহাই পেয়েছেন এই ব্যক্তি। তদন্তকারীরা বলছেন, মনোজ অরোরা হলেন এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।

কারণ বিদেশে রবার্ট ওয়াধেরার অঘোষিত সম্পত্তি সম্পর্কে সব কিছু জানতেন তিনি। পাশাপাশি সেই সম্পত্তির জন্য অর্থের জোগান দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল তার। যাদিও রবার্ট ওয়াধেরার অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তার পিছনে পড়েছে। যাতে কংগ্রেসকে বিপাকে ফেলা যায়।

ওয়াধেরার আইনজীবী কে টি এস তুলসীর বক্তব্য, ২০১৬ সাল থেকেই এসব চলছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ওদের কাছে কোনো প্রমাণই নেই। সবটাই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। ৬ ফেব্রুয়ারি রবার্ট ওয়াধেরা হাজির হবে। তিনি যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। বহু বছর আগেই তদন্তকারীদের কাছে সব রেকর্ড তুলে দেয়া হয়েছিল। সেখানে কিছুই পাননি তারা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *