চিকিৎসায় বাংলাদেশের ১০ সাফল্য এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণায়

গত দশ বছরে চিকিৎসা খাতে বাংলাদেশের সফলতা অর্জনে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উন্নত বিশের দেশ গুলো। নানা প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকুলতা আর সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কেভাবে এমন সাফল্য অর্জন করলো বাংলদেশ?

বাংলাদেশের জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে ৮ম। সুতরাং এমন একটি দেশে এত বড় বড় সাফল্য অর্জন কোনো বিচারেই সহজ সাধ্য নিয়। অথচ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অনেকগুলো সূচকে তার প্রতিবেশীদের চেয়ে এগিয়ে। বিভিন্ন সেক্টরে বিরাজমান দূর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিপুল জনসংখ্যার ভারে নুয়ে পড়া একটি স্বল্প উন্নত কিংবা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ স্বাস্থ্য খাতে কীভাবে এ বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এলো, সেটা এখন বড় বড় জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী, একাডেমিক, অর্থনীতিবিদ, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের কাছে গবেষণার বিষয়।

অনেকের মতে তা কেবল সম্ভব হয়েছে, দক্ষ চিকিৎসক জনশক্তি, টিম ওয়ার্ক, মোটিভেশন, স্বাস্থ্য খাতে ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর আর্থিক অনুদান, বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ও সরকারের নীতিমালা।

স্বাস্থ্যখাতে যে দশটি সাফল্য এনেছে বাংলাদেশ তা,

এক.
১৯৮০ সালে বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মায়ের মধ্যে ৭৬৯ জন মা সন্তান জন্মদান করতে গিয়ে মারা যেতেন; ২০১৫ সালে তা কমে ১৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই সংখ্যা ১৭৪ জন, পাকিস্তানে ১৭৮ জন এবং নেপালে ২৫৮ জন।

দুই.
১৯৮০ সালে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৪ বছর। ২০১৯ তা বেড়ে এখন ৭১। ভারতের মানুষের গড় আয়ু ৬৬.৪০ বছর, পাকিস্তানে ৬৫.৫৮ বছর এবং নেপালে ৬৮ বছর।

তিন.
বাংলাদেশে বর্তমানে শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৩৬ জন, ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ১৪৯ জন। বর্তমানে ভারতে শিশু মৃত্যু হার প্রতি হাজারে ৪৩ জন, পাকিস্তানে ৫৭ জন, নেপালে ৪০ জন এবং মিয়ানমারে ৪৫ জন।

চার.
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে উদাহরণ; ১৯৮০ সালে বাংলাদেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রতি নারী গড়ে ৭ জন সন্তান জন্মদান করতেন; বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে এসে দাঁড়িয়েছে ২ জনে। ভারতে এবং পাকিস্তানে এই সংখ্যা ৩ জন।
১৯৮০ সালে বাংলাদেশে জন্ম নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণকারীর হার ছিল শতকরা মাত্র ১০ জন আর এখন সেটা শতকরা ৬১ জন।

পাঁচ.
বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি (৬টি রোগের টিকা : যক্ষা , পোলিও, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম) জাতিসংঘ কর্তৃক পুরস্কৃত। এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় এখনো অনেক দেশ টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের মতো সফলতা পায়নি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এখন পোলিওমুক্ত দেশ।

ছয়.
পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন পোগ্রামের সফলতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

সাত.
বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি কর্তৃক ডায়রিয়া এবং কলেরার প্রতিষেধক (খাবার স্যালাইন) আবিষ্কার; খাবার স্যালাইন বানানো প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী জীবন রক্ষাকারী ঘটনা। এই মহাষৌধ পৃথিবীব্যাপী প্রতি দিন লাখ কোটি মানুষের জীবন রক্ষা করছে।

আট.
বাংলাদেশের মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবাদানকারী ‘কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল/সবুজ ছাতা প্রকল্প’ এখন এশিয়া, আফ্রিকার অনেক দেশে অনুসরণ করা হচ্ছে।

নয়.
বাংলাদেশের ‘যক্ষা রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ক মডেল’ সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকাতে এইডস এবং এইচআইভি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োগ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যক্ষার সঙ্গে এইডস রোগের সম্পর্ক রয়েছে।

দশ.
২০১৫ সালের আগেই বাংলাদেশ তার সহশ্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা (মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস) অর্জনকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে নন্দিত হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *