একটি ছেলে ও তার সাইকেল : সরদার হাসিব আহমেদ শান্ত

ক্লাস ফাইভে পড়ুয়া একটা ছেলের স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট টিউটর বাবদ বার্ষিক খরচ লক্ষাধিক টাকা। সেটা অবশ্যই বড় কথা নয়। প্রতিযোগিতার এই দেশে এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।

বাবার কাছে ছেলেটা একটা সাইকেল চেয়েছিলো। ছেলের আবদার মেটাতে বাবা সাইকেল কিনে দিলো। আর বললো, বেশী করে পড়তে হবে এখন।
সকাল থেকে শুরু হয় ছেলেটার পড়ার যুদ্ধ। সারাদিন স্কুল, কোচিং, প্রাইভেট শেষ করে ক্লান্তিহীন দেহ নিয়ে পড়তে বসতে হয়। স্কুলের পড়া কমপ্লিট করতে হবে। বাবা বলেছে ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেতে হবে। নাহলে সমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা। বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ছেলেটা পড়তে বসে প্রতিদিন। কিন্তু সাইকেলটা চালানোর সময় হয়না তার। বাবার কাছে প্রশ্ন ছেলেটার, “আচ্ছা বাবা, আমি সাইকেলটা চালাবো কবে?” বাবা বললো, “বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হোক, তারপর অনেক টাইম পাবে”। প্রতিদিন রাতে সাইকেলটায় হাত বুলায় ছেলেটা। তারপর ঘুমিয়ে পড়ে।
বৃত্তি পরীক্ষা শেষ হলো। এখন তবে সাইকেল চালানোর পালা। ছেলেটা বাবাকে বললো, “বাবা আমি সাইকেল নিয়ে বাইরে যাই?” বাবা বললো, “না বাবা, সামনে তোমার স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা। ভালো স্কুলে ভর্তি হতে না পারলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার!” ছেলেটা ভাবলো “বাবা যা বলে তা তো আমার ভালোর জন্যই। আচ্ছা ভর্তি পরীক্ষার পর নাহয় সাইকেল চালাবো।”
পরদিন থেকে শুরু হয়ে গেলো ভর্তি কোচিং। খুব পড়াশোনা করে নামকরা স্কুলে চান্স হলো ছেলেটার। এবার তাহলে সাইকেল নিয়ে বের হওয়া যাবে।
– বাবা আমি সাইকেল নিয়ে বের হই?
– এখন না। পড়তে যাও। ক্লাস সিক্সে অনেক পড়তে হবে তোমাকে। রাতে তোমার প্রাইভেট টিউটর আসবে।
ছেলেটা বাধ্য ছেলের মতো পড়ার টেবিলে চলে গেলো। বাবা বলেছে জেএসসি তে ভালো রেজাল্ট করতে হবে। আর তার জন্য এখন থেকেই পড়া শুরু করতে হবে। ছেলেটা বাবার কথা মতো পড়া শুরু করে দিলো। স্কুল, কোচিং, প্রাইভেটের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে কষ্ট হলেও বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে পড়ছে ছেলেটা। জেএসসি পরীক্ষা শেষ হলো তার।
– এখন কি আমি সাইকেল নিয়ে বের হতে পারবো?
– তোমার টেবিলে ক্লাস নাইনের বই রাখা আছে। গিয়ে পড়তে বসো। এখন থেকে শুরু না করলে খাপ খাইয়ে নিতে পারবানা। আর কাল থেকে প্রাইভেট পড়া শুরু করবে। এসএসসির পর অনেক সময় পাবে। তখন যা ইচ্ছা তা করতে পারবে।
সাইকেলটা আগের জায়গাতেই পড়ে রইলো। চাকাগুলো এখনো মাটির স্পর্শ পেলোনা।
টেবিলে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, হাইয়ার ম্যাথ, বায়োলজি বই রাখা আছে। নতুন চকচকে বই। বাবা বলেছে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার না হলে কোন দাম নেই। আর তার জন্য ভালোভাবে পড়তে হবে। জেএসসির রেজাল্ট দিলো। গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে ছেলেটা। বাবা বলেছে জেএসসির রেজাল্টের নাকি ভবিষ্যতে কোন প্রয়োজনীয়তা নেই। এসএসসির রেজাল্টটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেটার জন্য প্রিপেয়ার্ড হতে হবে। ছেলেটা বাবার কথা মতো প্রিপারেশান নিতে লাগলো। অনেকগুলো স্যারের কাছে পড়তে হয় তার। একটা শেষ না হতেই আরেকটা। কখনো কখনো ক্লান্তিতে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। আবার চোখে পানি দিয়ে পড়তে বসে। বাবার বলেছে গোল্ডেন এ প্লাস পেতেই হবে। নাহলে বাবা মা সমাজে মুখ দেখাতে পারবেনা।
এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলো। মনে হচ্ছে খুব ভালো রেজাল্ট হবে। অনেকদিন অবসর। এখন হয়তো সাইকেলটা চালাতে পারবে ছেলেটা। এবার হয়তো সাইকেলের চাকাগুলো মাটির স্পর্শ পাবে।
– বাবা এবার আমি সাইকেল নিয়ে বের হই?
– কলেজ লাইফ কি তোমার কাছে সহজ মনে হচ্ছে? কলেজ লাইফ খুব কঠিন। আমি বই কিনে রেখে এসেছি তোমার টেবিলে। ওগুলো কে পড়বে?
– বাবা তাহলে আমি সাইকেলটা চালাবো কখন?
– এইচএসসি শেষ হোক। তখন দেখা যাবে।
দেশের স্বনামধন্য কলেজে ভর্তি হলো ছেলেটা। বাবা বলেছে তাকে ডাক্তার হতে হবে। বায়োলজিকে প্রায়োরিটি দিতে হবে বেশী। কিন্তু বায়োলজি তার ভালো লাগেনা। ফিজিক্স তার অনেক ভালো লাগে। ফিজিক্সের চোখ কপালে তুলা ম্যাথগুলো খুব সহজেই সমাধান করে ফেলতে পারে সে। কলেজের ফিজিক্স টিচারের খুব প্রিয় ছাত্র সে। স্যার বলেছে “একদিন তুই অনেক বড় ইঞ্জিনিয়ার হবি”। কিন্তু বাবা তো বলেছে তাকে ডাক্তার হতে হবে! অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সে বায়োলজিকে বেশী প্রায়োরিটি দিচ্ছে। কলেজে ক্লাসের পাশাপাশি তার সাবজেক্ট প্রতি দুইটা তিনটা প্রাইভেট। মাথা হ্যাং হয়ে যায় কখনো কখনো। তবুও তার পড়তে হবে। কারণ বাবা বলেছে বেশী না পড়লে এইচএসসি তে রেজাল্ট খারাপ হবে। আর ডাক্তার হতে হলে ভালো সিজিপিএ লাগবে। তাই সে কষ্ট হলেও পড়ে যাচ্ছে। বাবা বলেছে গোল্ডেন এ প্লাস না পেলে তাকে মুখ না দেখাতে। এই সমাজ গোল্ডেন এ প্লাস না পেলে যে ব্যর্থদের কাতারে ফেলে দেয়! তবে ছেলেটার এইচএসসি শেষ হলো খুব ভালোভাবেই।
– বাবা আমর তো এইচএসসি শেষ। আমি কি এখন সাইকেলটা নিয়ে বের হবো?
– এখন অযথা সময় নষ্ট করা যাবেনা। এখন প্রতিটা সেকেন্ড কাউন্ট করতে হবে তোমাকে। নাহলে মেডিকেলে চান্স পাবেনা। কাল থেকে রেটিনাতে ক্লাস করবে। রেটিনা মেডিকেল কোচিংয়ের জন্য খুব ভালো।
কিন্তু ছেলেটার মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছা নেই। ওর শখ, ভালোলাগা, প্যাশন সব ইঞ্জিনিয়ারিং। ছেলেটার স্বপ্ন সে বুয়েটে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়বে। একটি স্বপ্নের এভাবে অপমৃত্যু ঘটবে! এটা ভেবে সে সিদ্ধান্ত নিলো বাবাকে তার ইচ্ছার কথা বলবে। যদি বাবা রাজি হয়ে যায়!
– বাবা আমি চাচ্ছিলাম উদ্ভাসে ভর্তি হতে। আমার বুয়েটে পড়ার খুব ইচ্ছা।
বাবা চোখ খটোমটো করে তাকালো ছেলের দিকে। বাবার রক্তচক্ষুর কাছে সলিলসমাধি ঘটলো একটি স্বপ্নের।
রেটিনায় ভর্তি হলো ছেলেটা। প্রতিদিন রাতে সাইকেলটায় হাত বুলিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে। বন্ধুরা যারা আগে সাইকেল চালাতো এখন তারা বাইক নিয়ে ঘুরে। কিন্তু তার এখনো সাইকেলের প্যাডেলা পা রাখা হয়নি এখনো। আর চাকাগুলোরও মাটির স্পর্শ পাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি।
বায়োলজিতে দূর্বলতা অনেক তার। তবুও বাবার ইচ্ছা ডাক্তার হতে হবে তাকে। বায়োলজি মাথায় ঢুকেনা তবুও সে বায়োলজি পড়ে। একবার বারবার।
এইচএসসির রেজাল্ট বের হয়েছে। গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে সে। সবাই খুব খুশি। বাড়িতে বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে যাচ্ছেন মা। কিন্তু তাকে পড়ার টেবিল থেকে উঠতে দেয়া হচ্ছেনা। তার সামনে মেডিকেল পরীক্ষা। অনেক পড়া। রাতদিন না পড়লে চান্স হবেনা বাবা বলে দিয়েছে। তাই সে রাতদিন এক করে পড়েই চলেছে।
মেডিকেল পরীক্ষার ফরম ছেড়েছে। বাবা অনলাইনে আবেদন করে এসেছে তার হয়ে। বাবা বলে দিয়েছে আর কোথাও আবেদন করা যাবেনা। ডাক্তারই হতে হবে তাকে। এটা যেনো ঘটতেই হবে। বাবার মান সম্মান জড়িয়ে এতে। মান বাঁচাতে হবে বাবার।
বহুল প্রতীক্ষিত মেডিকেল পরীক্ষা। পরীক্ষার জন্য বের হওয়ার আগে একবার সাইকেলটায় হাত বুলিয়ে নিলো সে। আজকের পরে হয়তো সাইকেলটা চালাতে পারবে সে। পরীক্ষার হলে ঢুকার আগে বাবা মায়ের পা ছুঁয়ে সালাম করে নিলো। বাবা বলে দিয়েছে নব্বইটার কম না দাগাতে।
পরীক্ষার হলে খুব সাবধানে রোল ভরাট করলো সে। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর সেট কোড ভরাট করলো। প্রশ্ন তার কাছে মোটামুটি সহজ মনে হচ্ছে। পঞ্চান্নো মিনিটে সে আশিটা অবজেক্টিভ ভরাট করলো। কিন্তু বাবা বলেছে নব্বইটা ভরাট করতে। নাহলে চান্স হবেনা। কি করবে সে? আর তো হচ্ছেনা তাকে দিয়ে। তবুও সে বাবার কথা মতো নব্বইটা ভরাট করে আসলো। বাবা খুব খুশি হলো ছেলে তার কথা রেখেছে। এবার তবে চান্স হয়েই যাবে। সন্ধার খবরে দেখা গেলো প্রশ্ন আউট হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন পেয়ে মেডিকেল পরীক্ষা দিয়েছে। ছয় লাখ সাত লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রি করেছে একটা সিণ্ডিকেট। সে এগুলোতে কান দিলোনা। বাবাকেও না করলো কান দিতে।
পরদিন ছেলেটা সাইকেল নিয়ে বের হতে চাইলো। সেই কবে কিনে দিয়েছিলো বাবা! ঘরের কোণে পরে পরে জং ধরে গেছে। ধুলো জমে গেছে অনেক। সে সবকিছু মুছে সাইকেলটা নিয়ে বের হতে যাবে তখনি বাবা এসে বললো,
– কোথায় বের হচ্ছো?
– বাবা এখন তো আর পড়া নেই। তাই একটু সাইকেলটা চালাতে বের হচ্ছিলাম।
– আমার এক ডাক্তার বন্ধুকে ফোন করেছিলাম। তুমি তার সাথে দেখা করতে যাবে এখন। সে তোমাকে মেডিকেল পড়া সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিবে। আর মেডিকেল পড়া এত সহজ ভেবোনা। অনেক পড়তে হবে। যাও হাত মুখ ধুয়ে রেডি হও।
সাইকেলটা রেখে দিয়ে হাত মুখ ধুতে চলে গেলো সে। চাকাগুলোর আজো মাটির স্পর্শ পাওয়া হলোনা।
মেডিকেলের রেজাল্ট বের হয়েছে। গতকাল রাত থেকে কিছুই খায়নি সে। বাবা বলেছে চান্স না পেলে বাড়িতে থাকতে দিবেনা। খুব টেনশানে আছে ছেলেটা। বাবা রেজাল্ট দেখে বাড়িতে ঢুকলো। বাবার মুখ গম্ভীর। কোন কথা বলছেনা। মা বারবার জিজ্ঞেস করেই যাচ্ছে। হঠাৎ নীরবতা ভাঙলো বাবা।
– সেই ছোটকাল থেকে খাইয়ে পড়িয়ে বড় করেছি এই দিন দেখার জন্য? কি দেইনি ওকে? সব দিয়েছি। একটার জায়গায় দুইটা টিচার দিয়েছি। তবুও আজকে….!
ছেলেটার বুঝিতে বাকি রইলোনা কি হয়েছে। তার চান্স হয়নি। কিন্তু হওয়ার কথা ছিলো। অনেক চেষ্টা করেছে সে। অনেক কষ্ট করেছে। সব সুখ বিসর্জন দিয়ে বাবার স্বপ্নপূরণ করতে বদ্ধপরিকর ছিলো সে। কিন্তু সে পারেনি। বাবা বকেই চলেছে।
– এমন কুলাঙ্গার ছেলে যেনো মানুষের ঘরে না হয়। আমি এই সমাজে মুখ দেখাতে পারবোনা। সবার কাছে মাথা হেট হয়ে গেলো আমার। সবাই ফোন দিচ্ছে। কি জাবাব দিবো ওদের? এমন ছেলে থাকার চেয়ে না থাকা ভালো। মরে যা তুই। মরে গিয়ে বাঁচিয়ে দে আমাকে। তোর মুখ আমি আর দেখতে চাই না।
ছেলেটা বাবা কে কিছু বলতে চাইলো। আজ অনেকদিন পর। প্রথমবারের মতো অনেক কিছু বলতে মন চাইলো। কিন্তু বলতে পারলোনা। মনের কথাটা মনেই রেখে দিলো। চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি ছেলেটা। নিজের সবটা দিয়ে চেষ্টা করেছে বাবার জন্য। বাবার স্বপ্নেপূরণে নিজের স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়েছে সে। রাত দিন পড়েছে। কারণ বাবা বলেছিলো সে ডাক্তার হবে। আজ পর্যন্ত বাবা যা রেজাল্ট চেয়েছে সে দিয়েছে। কিন্তু সে এটা দিতে পারেনি।
সে ব্যর্থ। সত্যিই ব্যর্থ? তাহলে ক্লাস ফাইভের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, জেএসসির গোল্ডেন এ প্লাস, এসএসসির গোল্ডেন এ প্লাস, এইচএসসির গোল্ডেন এ প্লাস কেন ছিলো? আজ কি কোন দাম নেই এগুলোর? পর্যায়ক্রমিকভাবে সফল ছেলেটার একটি ব্যর্থতা কি ব্যর্থ বানিয়ে দিলো তাকে? তাহলে কেন এই শিক্ষা? কেমন এই শিক্ষাব্যবস্থা? দিনের পর দিন খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করিয়ে রাত দিন এক করে পড়ালেখা করার পর একটা প্রশ্ন আউট টাইপ পরীক্ষা নিয়ে কি প্রমাণ করতে চায় এই শিক্ষাব্যবস্থা? এত এত সার্টিফিকেটের সাফল্য একটি ব্যর্থতায় কেন ভুলে যায় এই সমাজ? দিনের পর দিন নিঃশ্বাস নিতে না পারা ছেলেটা নিঃশ্বাস নিবে কবে? কবে তবে ছেলেটা মুক্তি পাবে?
দরজাটা বন্ধ করে দিলো যাতে বাবার চিৎকার কানে না আসে। বাবা বলেছে মুখ না দেখাতে। বাবা বলছে মরে গিয়ে বাঁচিয়ে দিতে তাকে। বাবার কথা ফেলেনি কখনো ছেলেটা। আজ কি বাবার কথা রাখবেনা? সাইকেলটায় হাত বুলিয়ে নিলো ছেলেটা। ছোট্র করে একটা চুমো খেলো। পড়ার টেবিলটায় বসে রইলো কিছুক্ষন। ফিজিক্স বইটা হাতে নিয়ে চোখ বুলিয়ে নিলো। লাইটটা বন্ধ করে দিলো।
দরজার ওপাশ থেকে কড়া নাড়া হচ্ছে। মা ডাকছে “মহিন দরজা খুল।” ঘর অন্ধকার। দরজা খুলছেনা মাহিন। অনেকক্ষন ডাকাডাকির পরেও দরজা খুলছেনা সে। বাবা মা সবাই ডাকাডাকি করছে। দরজা খুলছেনা মাহিন।
দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকলো বাবা। লাইটটা জ্বালিয়ে দিলো। মাহিন কোথায়? একটা সাদা পাতা টেবিলে ফিজিক্স বই দিয়ে আটকানো। তাতে বড় করে লেখা “ভালো থেকো বাবা। এ পৃথিবী ব্যর্থদের জন্য না”
ঘরের কোণায় সেই সাইকেল। কিছু কিছু সাইকেলের ভাগ্যে হয়তো কিছুই থাকেনা। কারণ তার মালিক থাকে বাবার বাধ্য ছেলেরা। কিছু কিছু সাইকেলের মাটির স্পর্শ পাওয়া হয়না। ঘরের কোণে পড়ে থেকে জং ধরে যায়; রঙচটা অপবাদ নিয়ে পরে থাকতে হয় অবহেলায়। ব্যর্থ সাইকেল। মাহিনের মতো। মাহিন কোথায়?
সিলিঙে ঝুলছে একটি ব্যর্থতা। একটি শিক্ষাব্যবস্থা। গুটিকয়েক গোল্ডেন এ প্লাসের সার্টিফিকেট। একটি সদ্য মুক্ত পাখি। একটি হাফ ছেড়ে বাঁচা নিঃশ্বাস।একটি বাবার বাধ্য রোবট। একটি ছেলে। একটি লাশ।
এই পৃথিবী ব্যর্থদের জন্য না। ভালো থাকুক এই সমাজ। ভালো থাকুক সফল মানুষগুলো। ব্যর্থরা নাহয় এভাবেই বেঁচে থাক; মরে গিয়ে।
লেখকঃ সরদার হাসিব আহমেদ শান্ত
আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, অনার্স ২য় বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *